গণপরিবহনে অরাজকতা চরম ভোগান্তি
হঠাৎ করেই গণপরিবহনে অরাজকতা চরম ভোগান্তি পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে ২০০ টাকার ভাড়া নেওয়া হতো, সেখানে এখন আদায় করা হচ্ছে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত। এতে করে ক্ষোভে ফুঁসছেন যাত্রীরা, অনেকে বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটেই বাড়ি ফিরছেন।
রাজধানীর বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ও টার্মিনালে দেখা যায়, যাত্রীদের দীর্ঘ সারি, কিন্তু যানবাহনের সংখ্যা তুলনামূলক কম রয়েছে। এই সুযোগে কিছু অসাধু পরিবহন চালক ও হেলপার অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন। অনেক যাত্রী অভিযোগ করেন, ভাড়া নিয়ে দরাদরি করলে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হচ্ছে, এমনকি গাড়িতে উঠতেও দেওয়া হচ্ছে না।
মিরপুর থেকে গাজীপুরগামী এক যাত্রী বলেন, সাধারণত অন্য সময় ২০০ টাকা লাগে, কিন্তু আজ ১২০০ টাকা চাচ্ছে। এত টাকা দিয়ে যাওয়া সম্ভব না, তাই পায়ে হেঁটেই রওনা দিয়েছি। এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে আরও অনেক যাত্রীদের মাঝে। তারা বলেন এমন পরিস্থিতি এক প্রকার জুলুমে পরিণত হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন। যাদের দৈনিক আয়ের উপর সংসার চালাতে হয়, নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে এমন অতিরিক্ত ভাড়া দেওয়া প্রায় অসম্ভব। ফলে অনেকেই কর্মস্থলে যেতে না পেরে আবার ফিরে আসছে ক্ষোভ নিয়ে ।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব ,মোজাম্মেল হক চৌধুরি বলেন “বিগত দিনের আমাদের কাছে যে তথ্য উপাত্য আছে তা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এইবারের ঈদের যে ভাড়া বৃদ্ধির হার তা অস্বাভাবিক , যেটা গত ২০ বছরের ভিতরে বেশী।
এদিকে, পরিবহন সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ দাবি করছেন, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি, যানজট ও যাত্রী সংকটের কারণে তারা বাধ্য হয়ে ভাড়া বাড়িয়েছেন। তবে যাত্রীরা এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাদের মতে, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে এভাবে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি , যা মনিটিরিং করা দরকার।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে জনজীবনে আরও অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, যাতে সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে যাতায়াত করতে পারেন নিজ গন্তব্যে।
এদিকে সড়ক পরিবহন এবং রেল মন্ত্রী বলেন “ কোথাও ভাড়া বেশী নেয় হচ্ছে না আরো মূল ভাড়ার চেয়ে ২০ থেকে ৫০ টাকা ভাড়া কম নেয়া হচ্ছে। মন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পরে নানা সমালোচনার দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ মন্ত্রীর পদত্যাগের কথাও বলছে । সোস্যাল মিডিয়ায় রাতারাতি এ নিয়ে চলছে তুমুল বিতর্ক।
বর্তমানে যাত্রীদের একটাই প্রশ্ন—এই অতিরিক্ত ভাড়ার লাগাম কে টানবে? যতদিন না এর সমাধান হচ্ছে, ততদিন ভোগান্তি আর ক্ষোভ নিয়েই পথ চলতে হবে সাধারণ মানুষকে।
