জামাতের নারী নেত্রীর ওপর বর্বর হামলায়

জামাতের নারী নেত্রীর ওপর বর্বর হামলায়

ঢাকা-৪ আসনের নির্বাচনী প্রচারণাকালে জামাতের নারী নেত্রীর ওপর বর্বর হামলায় প্রতিবাদে রাজধানীর কদমতলীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কদমতলী থানার মহিলা বিভাগ। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক নারী নেতাকর্মী অংশ নেন। মিছিলটি কদমতলীর কুদরত আলী বাজার মোড় থেকে শুরু হয়ে আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী নারীরা হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। মিছিল শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি আয়েশা সিদ্দিকা পারভীনসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৪ আসনের নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা ও স্থানীয় মহিলা বিভাগের দায়িত্বশীলরা।

শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আহ্বান বিএনপির

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন বলেন, ঢাকা-৪ সংসদীয় আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণাকালে কদমতলীর একটি এলাকায় জামায়াতের নারী নেত্রী কাজী মারিয়া ইসলাম বেবির ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। তিনি অভিযোগ করেন, হত্যার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেছে। এই ঘটনা সরাসরি নারীর প্রতি সহিংসতার একটি ভয়াবহ উদাহরণ।

তিনি আরও বলেন, যারা নারীর নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষা করার কথা বলে, বাস্তবে তারাই রাজনৈতিক স্বার্থে নারীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হলে নারী সমাজ চুপ করে থাকবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, নির্বাচনী মাঠে সকল দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত না থাকায় সহিংসতা বাড়ছে। প্রশাসনের নিরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা জনমনে প্রশ্ন তৈরি করছে। তারা দাবি করেন, প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণ রাজপথে নামতে বাধ্য হতে পারে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই যদি একটি দলের নেতাকর্মীদের হাতে সাধারণ মানুষ ও নারী সমাজ নিরাপদ না থাকে, তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সমাবেশ থেকে হামলার সঙ্গে জড়িত সকলকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানানো হয়।

Leave a Comment