ঢাকায় এলপি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি
রাজধানীতে হঠাৎ করেই এলপিজি সিলিন্ডারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সরকারি নির্ধারিত দামের অনেক আগেই বাজারে সিলিন্ডারের দাম কয়েক শ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এতে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন ভোক্তারা।
গৃহস্থালিতে রান্নার কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার। কিন্তু গত দুই সপ্তাহ ধরে এই সিলিন্ডারের দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকার খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ পাচ্ছেন না। ফলে ক্রেতাদের পর্যাপ্ত গ্যাস দিতে পারছেন না এবং বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে বিক্রি করছেন।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, তাঁরা নিয়মিত কোম্পানির কাছে অর্ডার দিলেও পর্যাপ্ত এলপিজি সরবরাহ করা হচ্ছে না। চাহিদার তুলনায় অল্পসংখ্যক সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে এবং দাম বেড়ে যাচ্ছে।

“বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (BERC)”
ঢাকায় এলপি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এ বিষয়ে সারা দেশের এলপিজি সিলিন্ডার পরিবেশক সমিতির সভাপতি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সরকারিভাবে দাম না বাড়িয়ে বাজারে এভাবে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটি অনৈতিক এবং খুচরা বিক্রেতারা ঠিক কাজ করছেন না।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে অধিকাংশ কোম্পানি এলপিজি সরবরাহ সীমিত করে দিয়েছে। এক হাজার সিলিন্ডারের চাহিদা দিলে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০টি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে, ট্রাকগুলো বসে থাকছে এবং কোম্পানিগুলো প্রতিটি সিলিন্ডারে অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ টাকা বাড়তি দাম নিচ্ছে।
এলপিজির এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট দ্রুত সমাধানে সরকারের তদারকি বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যথায় সাধারণ ভোক্তাদের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।
বাংলাদেশে এলপি গ্যাস সংকট: দৈনিক চাহিদা ও সংকটের কারণ
বাংলাদেশে রান্নার কাজে এলপি গ্যাসের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চল ও আধা শহর এলাকায় পাইপলাইনের গ্যাসের অভাবে এলপি গ্যাসই এখন প্রধান ভরসা। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার তথ্যমতে, বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে প্রতিদিন গড়ে ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ মেট্রিকটন এলপি গ্যাসের চাহিদা রয়েছে।
এই চাহিদার বড় একটি অংশ আসে গৃহস্থালি রান্নার কাজে ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপি সিলিন্ডার থেকে।
দেশে ব্যবহৃত মোট এলপি গ্যাসের প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানি নির্ভর। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলপি গ্যাস আমদানি করে বেসরকারি কোম্পানিগুলো বোতলজাত করে বাজারে সরবরাহ করে থাকে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার, ডলার সংকট এবং পরিবহন ব্যবস্থার ওপর এলপি গ্যাসের সরবরাহ অনেকটাই নির্ভরশীল।
সম্প্রতি ঢাকায় এলপি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি হঠাৎ করে বাজারে এলপি গ্যাসের সংকট তৈরি হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিছু কোম্পানি পর্যাপ্ত সরবরাহ না দেওয়ায় বাজারে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক পরিবেশক দাবি করছেন, ১ হাজার সিলিন্ডারের অর্ডার দিলেও তারা মাত্র ২০০–৩০০ সিলিন্ডার পাচ্ছেন। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে।
ঢাকায় এলপি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ঢাকায় এলপি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ঢাকায় এলপি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি
এ ছাড়া আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং কিছু ক্ষেত্রে মজুতদারির অভিযোগও রয়েছে। সরবরাহ কম থাকায় খুচরা বিক্রেতারা বাড়তি দামে এলপি গ্যাস বিক্রি করছেন, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে ভোক্তাদের ওপর। ফলে সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক বেশি দামে এলপি গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এবং নজরদারি জোরদার করা হলে এই সংকট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
