সালমান শাহ হত্যা মামলা আর কত বিলম্ব
ঢাকার একটি আদালত আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি সালমান শাহ হত্যার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেছেন। চিত্রনায়ক সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন)কে পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে তার স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা সময়মতো প্রতিবেদন দাখিল না করায় বিচারক নতুন দিন ধার্য করেন।
মামলা ও অভিযোগের ইতিহাস
সালমান শাহর মৃত্যুর পর প্রথমে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়নি।
গত বছরের ২০ অক্টোবর, ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদী পক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর, সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যার মামলা দায়ের করেন।
নতুন জোট সৌদি পাকিস্তান তুরস্ক
মোহাম্মদ আলমগীর এজাহারে উল্লেখ করেন, সালমান শাহর মৃত্যুতে তাকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যার শিকার বানানো হয়েছে। তিনি জানান, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমানের সঙ্গে দেখা করতে তার বোন নীলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় যান। সেখানে তারা দেখেন সালমান ঘুমাচ্ছেন।
অল্প সময় পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা বাসায় ফিরে গিয়ে দেখেন সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন, এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পা তেল মাখাচ্ছেন। পাশের কক্ষে সালমানের স্ত্রীর আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন।
সালমানের মা চিৎকার করে দ্রুত তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নেওয়ার চেষ্টা করেন। চিকিৎসকরা জানান, সালমান অনেক আগেই মারা গেছেন। পরিবারের সদস্যরা পথে তার গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান।

মামলার আসামিরা
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, সালমান শাহকে হত্যায় ১১ জনের সরাসরি যোগসাজশ ছিল। তারা হলেন:
- সালমান শাহের স্ত্রী সামীরা হক
- শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই
- লতিফা হক লুছি
- খলনায়ক ডন
- ডেবিট
- জাভেদ
- ফারুক
- মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি
- আব্দুস ছাত্তার
- সাজু
- রেজভি আহমেদ ফরহাদ
এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।
তেহরানের ভিডিও আসল দৃশ্য উদ্বেগজনক
আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পরের সঙ্গে যোগসাজশ করে পরিকল্পিতভাবে হত্যাটি সংঘটিত করেছে।
পরিবারের দৃষ্টিকোণ
সালমান শাহর পিতা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী মৃত্যুর আগে তার ছেলে হত্যার ঘটনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই তিনি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি চেয়েছিলেন, রমনা থানার অপমৃত্যু মামলা হত্যা মামলা হিসেবে রূপান্তরিত করা হোক এবং তদন্ত সিআইডি (CID) কর্তৃক করা হোক।
সালমান শাহর পিতার মৃত্যুর পর তার মামা মোহাম্মদ আলমগীর মামলাটি পরিচালনা করছেন। তিনি জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ যদি মৃত্যুবরণ করে থাকে, তবে প্রমাণ সাপেক্ষে তারা দায়মুক্তি পাবেন।
মামলার গুরুত্বপূর্ণ দিক
- সালমান শাহ হত্যার মামলা দীর্ঘ ২৭ বছরের বেশি সময় পরও আলোচনায় রয়েছে।
- মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২২ ফেব্রুয়ারি দাখিলের জন্য নির্ধারিত, যা পরবর্তী বিচার প্রক্রিয়ার মূল ধাপ হবে।
- মামলার আসামিরা প্রত্যেকেই পূর্বপরিকল্পিত হত্যার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত।
- মামলার তদন্ত ও বিচার দেশের চলচ্চিত্র ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক মনোযোগের বিষয়।
সালমান শাহ: চলচ্চিত্র ও জনপ্রিয়তা
সালমান শাহ বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে একজন কিংবদন্তি চিত্রনায়ক। ১৯৯০-এর দশকে তার অভিনয় ও জনপ্রিয়তা বিশাল ভক্তবৃন্দ তৈরি করেছিল। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অকাল মৃত্যু চলচ্চিত্র ও বিনোদন অঙ্গনে একটি শূন্যতার সৃষ্টি করেছিল।
তার মৃত্যু নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক ও নানা অভিযোগ ছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের এবং তদন্তের দীর্ঘ প্রক্রিয়া এই বিতর্কের প্রমাণ।
সর্বশেষ, আদালত ২২ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম দেশের চলচ্চিত্র ও বিচারপ্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে।
সালমান শাহ হত্যা মামলা আর কত বিলম্ব সালমান শাহ হত্যা মামলা আর কত বিলম্ব সালমান শাহ হত্যা মামলা আর কত বিলম্ব
