হারানো বলের পেছনের অজানা সত্য

হারানো বলের পেছনের অজানা সত্য

২০০০ সালের ইউএস ওপেনে ক্যালিফোর্নিয়ার পেবল বিচে টাইগার উডস ১৫ স্ট্রোকের বিশাল ব্যবধানে জয় লাভ করেন। এই পারফরম্যান্স আজও গলফ দুনিয়ায় অতুলনীয় বলে বিবেচিত হয়। অথচ সেই ঐতিহাসিক ম্যাচেই তিনি একটি বল হারিয়েছিলেন।

১৮ নম্বর হোল থেকে মারা তার শটটি বাঁক খেয়ে সোজা গিয়ে পড়ে প্রায় ৪০ ফুট গভীর পানিতে। সাগরের তলদেশে পড়ে থাকা অসংখ্য সাদা, গোলাপি ও হলুদ বলের সঙ্গে সেটিও হারিয়ে যায় চিরতরে।

যদি বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড়, ভবিষ্যতের ৮২ বার পিজিএ ট্যুর বিজয়ী টাইগার উডস তার সেরা সময়েও একটি বল হারাতে পারেন, তাহলে সাধারণ গলফ খেলোয়াড়রা বছরে কত বল হারান—এই প্রশ্নটা স্বাভাবিকভাবেই মাথায় আসে।

সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো—অসংখ্য।

গলফ খেলোয়াড় বাড়ছে, বাড়ছে বল হারানোর সংখ্যাও

যুক্তরাষ্ট্র গলফ অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ গলফ খেলেছেন। অন্যদিকে, বিশ্বের ১৪৬টি দেশে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে আরও প্রায় ৩ কোটি ১৬ লাখ মানুষ গলফ খেলায় অংশ নেন।

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বের মোট গলফ কোর্সের প্রায় ৪৩ শতাংশ ছিল। সেই সংখ্যা ছিল ১৬,৭৫২টি। মজার বিষয় হলো, এই সংখ্যা দেশটিতে থাকা স্টারবাকস কিংবা ম্যাকডোনাল্ডসের শাখার সংখ্যার থেকেও বেশি।

২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড ৫৩ কোটি ১০ লাখ রাউন্ড গলফ খেলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল গলফ ফাউন্ডেশন।

যারা কখনো গলফ খেলেছেন, তারা ভালো করেই জানেন—যে বল দিয়ে খেলা শুরু করেন, সেই বল দিয়েই খেলা শেষ করার সম্ভাবনা খুব কম।

খেলোয়াড়ের দক্ষতা, মাঠের ধরন, পানির বাধা, জঙ্গল, ঝোপঝাড় কিংবা বাতাস—সবকিছু মিলিয়ে বল হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়।

গবেষণা অনুযায়ী, একজন সাধারণ গলফ খেলোয়াড় প্রতি রাউন্ডে গড়ে ১ থেকে ৪টি বল হারান।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় হারানো বল সংগ্রহ করে পুনরায় বিক্রি করা একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী শন শিনফিল্ড জানান, তার অভিজ্ঞতায় এই সংখ্যা সাধারণত ৩ থেকে ৪টির কাছাকাছি।

যদি গড়ে প্রতি রাউন্ডে মাত্র ৩টি বল হারানো হয়, তাহলে ২০২০ সাল থেকে প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রেই হারাচ্ছে ১৫০ কোটির বেশি গলফ বল।

আইভরি কোস্টের স্বপ্ন ভাঙল মিশরের কাছে

সংখ্যাটা কল্পনা করা কঠিন।

এই বলগুলো যদি এক লাইনে সাজানো হয়, তাহলে পৃথিবীর পুরো পরিধি একবার নয়, বরং দেড় বারেরও বেশি ঘুরে আসা সম্ভব।

ডেনিশ গলফ ইউনিয়নের কোর্স ম্যানেজার টরবেন কাস্ত্রুপ পিটারসেন গলফ বলের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেছেন।

তার মতে, বিশ্বব্যাপী সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন হলেও প্রতি বছর হারানো গলফ বলের সংখ্যা ৩০০ কোটি থেকে ৫০০ কোটির মধ্যে হতে পারে।

এই বলগুলো শুধু হারিয়েই যায় না, বরং বহু ক্ষেত্রে নদী, হ্রদ, সাগর ও জঙ্গলে জমে থাকে বছরের পর বছর।

গলফ বল সাধারণত প্লাস্টিক ও বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানে তৈরি। সেগুলো পানিতে পড়ে ধীরে ধীরে ক্ষয় হয় এবং ক্ষতিকর উপাদান ছড়াতে পারে পরিবেশে।

সমুদ্রের তলদেশে, জলাশয়ে কিংবা বনাঞ্চলে পড়ে থাকা লক্ষ লক্ষ বল ধীরে ধীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়। যা মাছ, পাখি এবং অন্যান্য প্রাণীর জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এই কারণেই কিছু প্রতিষ্ঠান হারানো বল সংগ্রহ করে পুনর্ব্যবহার করার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে পরিবেশের ক্ষতি কিছুটা কমে এবং খেলোয়াড়রাও কম দামে বল কিনতে পারেন।

টাইগার উডসের একটি হারানো বল হয়তো ইতিহাসের পাতায় ছোট একটি ঘটনা মাত্র। কিন্তু সেটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়—এই খেলাটির আড়ালে কত বিশাল একটি অদৃশ্য সমস্যা লুকিয়ে আছে।

মেসি কোচ নয় মালিক হিসেবে থাকতে চান

প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন গলফ বল হারিয়ে যাচ্ছে, জমা হচ্ছে প্রকৃতির বুকে, আর তৈরি করছে পরিবেশের জন্য এক নীরব সংকট।

গলফ যেমন একদিকে রাজকীয় ও পরিশীলিত খেলা, তেমনি অন্যদিকে এটি হয়ে উঠছে পরিবেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

এই বাস্তবতা বুঝে অনেক দেশ ও সংগঠন এখন পরিবেশবান্ধব বল তৈরির চেষ্টা করছে এবং পুরনো বল পুনর্ব্যবহারের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

হয়তো ভবিষ্যতে এমন দিন আসবে, যখন গলফ মাঠে হারানো বল শুধু স্কোরকার্ডের হিসাবেই সীমাবদ্ধ থাকবে, প্রকৃতির বুকে আর জমা হবে না।

হারানো বলের পেছনের অজানা সত্য হারানো বলের পেছনের অজানা সত্য হারানো বলের পেছনের অজানা সত্য হারানো বলের পেছনের অজানা সত্য হারানো বলের পেছনের অজানা সত্য হারানো বলের পেছনের অজানা সত্য

Leave a Comment