১৬ দেশের বিরুদ্ধে মার্কিন তদন্ত

১৬ দেশের বিরুদ্ধে মার্কিন তদন্ত

বিশ্ববাজারে অতিরিক্ত উৎপাদন ও শিল্প সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে নজরদারি শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর। বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি Jamieson Greer জানান, দেশটির Trade Act of 1974–এর ৩০১ ধারা অনুযায়ী এই তদন্ত পরিচালিত হবে। মূলত খতিয়ে দেখা হবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর শিল্পনীতি, উৎপাদন কাঠামো বা সরকারি পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের জন্য অযৌক্তিক বা বৈষম্যমূলক প্রভাব ফেলছে কি না।

১৬ দেশের বিরুদ্ধে মার্কিন তদন্ত ,তদন্তের আওতায় থাকা দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে Bangladesh, China, European Union, Singapore, Switzerland, Norway, Indonesia, Malaysia, Cambodia, Thailand, South Korea, Vietnam, Taiwan, Mexico, Japan এবং India

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক দেশের উৎপাদন সক্ষমতা তাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। ফলে অতিরিক্ত উৎপাদিত পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা হয়। এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় শিল্পের ওপর পড়তে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।

বাণিজ্য প্রতিনিধি গ্রিয়ার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন পরিস্থিতি আর মেনে নেবে না যেখানে অন্য দেশের অতিরিক্ত উৎপাদিত পণ্য মার্কিন বাজারে ঢুকে স্থানীয় শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাঁর মতে, এ তদন্ত মূলত শিল্প খাতকে শক্তিশালী করা এবং যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদনভিত্তিক কর্মসংস্থান বাড়ানোর বৃহত্তর কৌশলের অংশ।

১৮ মাস পর হাদি হত্যা মামলায় অগ্রগতি

১৬ দেশের বিরুদ্ধে মার্কিন তদন্ত এই উদ্যোগকে অনেকেই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর শিল্পখাত পুনরুজ্জীবন নীতির ধারাবাহিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এই নীতির মূল লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা এবং দেশটির উৎপাদন খাতে নতুন বিনিয়োগ ও উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান তৈরি করা।

মার্কিন আইনের ৩০১ ধারা অনুযায়ী, কোনো দেশের বাণিজ্যনীতি যদি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বৈষম্যমূলক বা ক্ষতিকর মনে হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নিতে পারে। এমনকি প্রয়োজন হলে শুল্ক আরোপসহ বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

তদন্ত শুরু হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও পরামর্শের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে তালিকাভুক্ত দেশগুলোর সরকারকে এ বিষয়ে আলোচনার অনুরোধ পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জনমত ও মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়াও শুরু হচ্ছে। আগামী ১৭ মার্চ থেকে আগ্রহী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো লিখিত মতামত দিতে পারবে। ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত লিখিত মতামত, শুনানিতে অংশ নেওয়ার আবেদন এবং সাক্ষ্যের সারসংক্ষেপ জমা দেওয়া যাবে। এরপর ৫ মে থেকে এ বিষয়ে জনশুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই তদন্তের ফলাফল ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্ক ও বিভিন্ন দেশের রপ্তানি খাতের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র প্রথম আলো

Leave a Comment