কোলেস্টেরল কমাতে কী করতে হবে

কোলেস্টেরল কমাতে কী করতে হবে

বর্তমান সময়ে উচ্চ কোলেস্টেরল একটি নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দ্রুত বাড়ছে। শহর ও গ্রাম—উভয় এলাকাতেই অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং মানসিক চাপের কারণে অনেক মানুষ অজান্তেই উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যায় ভুগছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, সময়মতো সচেতন না হলে এটি হৃদরোগ, স্ট্রোক ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

কোলেস্টেরল কমাতে কী করতে হবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কোলেস্টেরল মূলত দুই ধরনের—ভালো কোলেস্টেরল (এইচডিএল) এবং খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল)। শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে ধমনীর ভেতরে চর্বি জমে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়। তাই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন কোলেস্টেরল কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়। প্রতিদিনের খাবারে অতিরিক্ত তেল, ঘি, মাখন, ফাস্টফুড ও ভাজাপোড়া কমাতে হবে। লাল মাংসের পরিবর্তে মাছ ও চর্বিহীন মুরগির মাংস খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা। শাকসবজি, ফলমূল, ওটস, ডাল ও আঁশযুক্ত খাবার নিয়মিত খেলে কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক হয়। বিশেষ করে আপেল, পেয়ারা, কমলা ও শাকসবজিতে থাকা ফাইবার রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।

শারীরিক পরিশ্রমও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা, হালকা দৌড়, সাইকেল চালানো বা ঘাম ঝরানো ব্যায়াম করলে শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমে এবং ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ে। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান কোলেস্টেরল বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। ধূমপান রক্তনালীর ক্ষতি করে এবং ভালো কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়। তাই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে ধূমপান পুরোপুরি পরিহার করা জরুরি বলে মত চিকিৎসকদের।

ওজন নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। অতিরিক্ত ওজন থাকলে শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা দ্রুত বাড়ে। সুষম খাদ্য ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন স্বাভাবিক পর্যায়ে রাখতে পারলে কোলেস্টেরল অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে।

হজমে কোন খাবারে কত সময় লাগে

কোলেস্টেরল কমাতে কী করতে হবে চিকিৎসকরা আরও বলছেন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা অত্যন্ত প্রয়োজন। বছরে অন্তত একবার রক্ত পরীক্ষা করে কোলেস্টেরলের মাত্রা জানা উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে, তবে নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, সচেতন জীবনযাপন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে কোলেস্টেরল সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সময়মতো সতর্ক হলে হৃদযন্ত্র থাকবে সুস্থ এবং জীবন হবে আরও নিরাপদ।

Leave a Comment