দেশের বাজারে এবার বাড়লো রূপার দাম

দেশের বাজারে এবার বাড়লো রূপার দাম

দেশের বাজারে রুপার দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এ দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। গতকাল, ২০ জানুয়ারি রাতে বাজুসের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রুপার দাম প্রতি ভরিতে ৩৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হবে ৬,৫৯০ টাকা প্রতি ভরি। এটি দেশের ইতিহাসে রুপার সর্বোচ্চ দাম। রুপার দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাজারের ওঠাপড়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অবস্থা বিবেচনা করা হয়েছে।

অন্য ক্যারেটের দামও সামঞ্জস্য করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬,২৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫,৪২৪ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি ভরি রুপার দাম হয়েছে ৪,০৮২ টাকা

বাজুস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানায়, রুপার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির পরিমাণে কিছুটা তারতম্য থাকতে পারে।

বস্তিবাসী উচ্ছেদের শঙ্কা: এনসিপি

এর আগে, ১৯ জানুয়ারি দেশের বাজারে রুপার দাম সর্বশেষ সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৬,২৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা আগের রেকর্ড ছিল। সেই সময় ২২ ক্যারেটের এক ভরি দাম বেড়েছিল ২৯১ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম হয়েছিল ৫,৯৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম ৫,১৩২ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি দাম ৩,৮৪৯ টাকা

বর্তমানে ২১ জানুয়ারি থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে। চলতি বছর দেশের বাজারে এখন পর্যন্ত রুপার দাম ৬ দফায় সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪ বার দাম বৃদ্ধি এবং ২ বার দাম কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশে রুপার বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১০ বার দাম বেড়েছিল এবং মাত্র ৩ বার দাম কমেছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রুপার দাম ওঠানামার পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব, স্বর্ণ-রূপা বিনিয়োগের চাহিদা, এবং স্থানীয় বাজারের সরবরাহ-চাহিদার অবস্থাই মূল কারণ। সাধারণ ক্রেতাদের জন্য নতুন দাম মানে সোনার গহনা কেনা এখন আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।

বাজারে রুপার এই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি গ্রাহকদের মাঝে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। গহনার দোকানগুলো বলছে, ক্রেতাদের মধ্যে আগের মতো স্বাভাবিক ক্রয়ক্ষমতা কমে যেতে পারে, কারণ প্রতি ভরি দাম বেড়ে গেছে। তবে যেসব ব্যক্তি সোনায় বিনিয়োগ করেন, তারা দাম বৃদ্ধিকে এক ধরনের সুযোগ হিসেবেও দেখছেন।

সাধারণভাবে, বাংলাদেশের বাজারে রুপা ও সোনার দামের ওঠাপড়া বছরের বিভিন্ন সময় ধরে চলতে থাকে। বাজুস নিয়মিত বাজারের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে দাম নির্ধারণ করে। ক্রেতাদের সুবিধার্থে বাজুস প্রতি পরিবর্তনের আগে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি দিয়ে থাকে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে, যারা গহনা বা সোনায় বিনিয়োগ করতে চান, তাদের জন্য এখন পরিকল্পিতভাবে ক্রয়-বিক্রয় করা গুরুত্বপূর্ণ। রুপার বাজারের ওঠাপড়া সামলাতে ধৈর্য, বাজার পর্যবেক্ষণ এবং আর্থিক পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Leave a Comment