বস্তিবাসী উচ্ছেদের শঙ্কা: এনসিপি
বস্তিবাসী উচ্ছেদের শঙ্কা: এনসিপি । এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড ও বস্তিবাসীদের ফ্ল্যাট দেওয়ার পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, সাধারণ মানুষ এসব আশ্বাস চায় না, তারা চায় নিরাপদ জীবন, ন্যায়বিচার এবং সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার।
বস্তিবাসী উচ্ছেদের শঙ্কা: এনসিপি আহ্ববায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকার একটি জনসমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনটাই বলেন, তিনি বলেন বিএনপি যে দুই থেকে তিন হাজার টাকার ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলছে, বাস্তবে তা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে বড় ধরনের সন্দেহ রয়েছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রকৃত দরিদ্র মানুষ এই কার্ড পাবে তো? নাকি কার্ড পেতে আবার ঘুষ দিতে হবে? তার মতে, অতীতে বিভিন্ন সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ প্রকৃত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একদিকে বিএনপি জনগণের জন্য সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, অন্যদিকে তারা ঋণখেলাপি ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের নির্বাচনে মনোনয়ন দিচ্ছে। নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, এই ধরনের প্রার্থীরা ক্ষমতায় গেলে আবার লুটপাটে জড়িয়ে পড়বে এবং জনগণের অর্থ আত্মসাৎ করবে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনমানের কোনো বাস্তব পরিবর্তন হবে না।
না’ ভোটের আহ্বানে তোপের মুখে প্রার্থী
বস্তিবাসীদের ফ্ল্যাট দেওয়ার ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি আসলে বস্তিবাসীদের উচ্ছেদের একটি ইঙ্গিত হতে পারে। তার ভাষায়, বস্তিবাসীরা ফ্ল্যাট চায় না, তারা চায় নিরাপদ বসবাসের নিশ্চয়তা, কাজের সুযোগ এবং মৌলিক নাগরিক অধিকার। তিনি দাবি করেন, অতীতেও যারা বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনের কথা বলেছে, তারা নির্বাচনের পর তাদের উচ্ছেদ করেছে। তাই এখন বস্তিবাসীরা এসব প্রতিশ্রুতিকে আর সহজে বিশ্বাস করে না।
নির্বাচন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, আসন্ন নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং কোনো দলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া যাবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অনিয়ম হলে তা মেনে নেওয়া হবে না এবং জনগণ মাঠে থেকেই প্রতিবাদ জানাবে।
তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়, এটি একটি বড় ধরনের গণভোট। এই গণভোটে জনগণ বৈষম্য, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, জুলুম এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। নাহিদ ইসলামের মতে, অতীতে যে আন্দোলনের মাধ্যমে এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে উঠেছিল, তার লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। তবে এই নির্বাচনের মাধ্যমে সেই আন্দোলনকে সফলতার পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
সবশেষে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য জনগণকে সচেতন হতে হবে এবং ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। উন্নয়ন বা সহায়তার নাম করে দেওয়া ফাঁকা আশ্বাস নয়, মানুষ চায় বাস্তব পরিবর্তন, নিরাপত্তা এবং একটি দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা।
