নির্বাচনের পর জামায়াতের অবস্থান

নির্বাচনের পর জামায়াতের অবস্থান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সাম্প্রতিক নির্বাচন নিয়ে দলের প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। নির্বাচন-পরবর্তী শপথ ইস্যু ঘিরে দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা সেখানে যাননি।

নির্বাচনের পর জামায়াতের অবস্থান ডা. শফিকুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, দলকে যে আমন্ত্রণপত্র দেওয়া হয়েছিল, তাতে দুটি পৃথক শপথের বিষয় উল্লেখ ছিল। একটি ছিল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ, আরেকটি ছিল ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’–সংক্রান্ত গণভোটের অঙ্গীকার। তবে শপথের দিন কক্ষে প্রবেশের পর তারা জানতে পারেন, সরকারি দলের সদস্যরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

তিনি দাবি করেন, তাদের দল উভয় শপথই সম্পন্ন করেছে। তার মতে, গণভোট ও জুলাই-সম্পর্কিত জনআকাঙ্ক্ষাকে তারা রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা হিসেবে দেখেছেন। এ কারণে বিষয়টিকে তারা কেবল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে নেননি।

২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, মূলত নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ওই বছরে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না। তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে এবং সেই ধারাবাহিকতায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাইয়ের চেতনা ও গণভোটের রায়কে সম্মান জানানো তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন আলোচনা জোরদার

সরকারি দলের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যদি কেউ জুলাইয়ের আন্দোলন ও সংস্কারের প্রশ্নকে গুরুত্ব দেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট শপথ গ্রহণ করাই যৌক্তিক হতো। তার মতে, সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট চাওয়ার প্রসঙ্গও বিবেচনায় রাখা উচিত।

শপথের বৈধতা প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে শপথ নেওয়া হবে, তা সংশ্লিষ্টদের সিদ্ধান্ত। তবে তার মতে, বৃহত্তর জনআকাঙ্ক্ষা ও জুলাইয়ের আন্দোলনের স্বীকৃতি নিশ্চিত হওয়া জরুরি। তা না হলে নতুন সংসদের নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে জামায়াত আমির বলেন, তাদের মানসিকভাবে অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়তে হয়েছে। জুলাইয়ে নিহতদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানানো তাদের কাছে অগ্রাধিকার পেয়েছে। এ কারণেই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি। তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে তার ব্যক্তিগতভাবে আফসোস রয়েছে বলেও জানান তিনি।

নির্বাচনের পর জামায়াতের অবস্থান নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শপথ ইস্যু নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন দলের অবস্থান ও ব্যাখ্যা ঘিরে বিষয়টি এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত হচ্ছে।

Leave a Comment