হু হু করে কমছে স্বর্ণের দাম
বিশ্ববাজারে আবারও হু হু করে কমছে স্বর্ণের দাম । এক সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে মূল্যবান এই ধাতুর দাম। একই সঙ্গে সাপ্তাহিক হিসাবেও দরপতনের পথে রয়েছে আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজার।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য, বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির চাপ এবং দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ সুদের হার বহাল থাকার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে স্বর্ণের বাজারেও।
এছাড়া আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি রাজনৈতিক দিকেও নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং–এর সম্ভাব্য বৈঠক ঘিরে বিশ্ববাজারে বাড়তি আলোচনা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক ও বাণিজ্য পরিস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
শুক্রবার (১৫ মে) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬১৯ দশমিক ৪৯ ডলারে নেমে আসে। এটি গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন দর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শুধু দৈনিক ভিত্তিতেই নয়, পুরো সপ্তাহজুড়েই নিম্নমুখী রয়েছে স্বর্ণের বাজার। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জুন মাসের ডেলিভারির জন্য স্বর্ণের ফিউচার মূল্যও কমেছে। সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, স্বর্ণের ফিউচার ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬২৫ দশমিক ৭০ ডলারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন ডলারের মান শক্তিশালী হয়ে ওঠাই স্বর্ণের বাজারে বড় চাপ তৈরি করেছে। চলতি সপ্তাহে ডলারের মূল্য ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ফলে অন্যান্য দেশের মুদ্রা ব্যবহারকারী বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।
ডলারের দাম বাড়লে সাধারণত স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের লেনদেন মূলত মার্কিন ডলারে হয়ে থাকে। ফলে ডলার শক্তিশালী হলে স্বর্ণ কেনার আগ্রহ কমে যায়।
অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে সাধারণত বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে থাকেন। তবে বর্তমানে সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেক বিনিয়োগকারী বিকল্প খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন। এতে স্বর্ণের বাজারে চাপ বাড়ছে।
হু হু করে কমছে স্বর্ণের দাম বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ যদি দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের নীতি অব্যাহত রাখে, তাহলে স্বর্ণের বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। কারণ উচ্চ সুদের সময়ে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদে বিনিয়োগের আগ্রহ কমে যায়।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতনের প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। সম্প্রতি দেশের বাজারে ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দেয় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠন। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মধ্যে।
অন্যদিকে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম ১৩ দিনে দেশে এসেছে প্রায় ২১ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকার রেমিট্যান্স। এর আগে প্রথম ১২ দিনে এসেছিল প্রায় ১৯ হাজার ৭০১ কোটি টাকা।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দাম ওঠানামা করলেও দেশের অর্থনীতির জন্য রেমিট্যান্স বড় সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে। একই সঙ্গে ডলার বাজার, জ্বালানি মূল্য এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতির ওপরও নজর রাখতে হবে।
বিশ্ববাজারে আগামী কয়েক সপ্তাহে স্বর্ণের দাম কোন দিকে যায়, তা অনেকটাই নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নীতি, ডলারের অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর। বিনিয়োগকারীরা এখন সেই দিকেই নজর রাখছেন।
