এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট শেষ
সারা দেশে এলপিজি (লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) বিপণন ও সরবরাহ বন্ধের ঘোষিত অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি সেলিম খান। তিনি জানান, বিইআরসি কর্তৃপক্ষ তাদের দাবিগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়ায় ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে খুব শিগগিরই এলপিজি সিলিন্ডারের বিপণন ও সরবরাহ কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিন দফা দাবি নিয়ে বৈঠক
বিইআরসি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এলপিজি ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে মোট তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—সারা দেশে এলপিজি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে চলমান প্রশাসনিক অভিযান বন্ধ করা, বিতরণকারী ও খুচরা বিক্রেতাদের চার্জ বৃদ্ধি করা এবং সার্বিকভাবে নিরবচ্ছিন্ন এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করা।
বৈঠকে বিইআরসি চেয়ারম্যান ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেন, প্রশাসনিক অভিযান সংক্রান্ত বিষয়টি তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন। একই সঙ্গে বিতরণ ও খুচরা পর্যায়ে চার্জ সমন্বয়ের বিষয়েও আইনগত কাঠামোর মধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন
সরবরাহ সংকট নিয়ে ব্যাখ্যা
বিইআরসি চেয়ারম্যান জানান, এলপিজি অপারেটরদের সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে বর্তমানে জাহাজ সংকট থাকলেও পণ্য আমদানির জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই এলপিজি সরবরাহ পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা চায় না সাধারণ মানুষ জ্বালানি সংকটে ভুগুক। তাই এলপিজি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
দাম নিয়ে মতভেদ
তবে এলপিজির মূল্য নিয়ে ব্যবসায়ী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে এখনো মতভেদ রয়েছে। এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. সেলিম খান বলেন, অপারেটরদের কাছ থেকে একটি এলপিজি সিলিন্ডার কিনতেই তাঁদের গড়ে ১ হাজার ৩০০ টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। এই অবস্থায় ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার দেড় হাজার টাকার কম দামে বিক্রি করা বাস্তবসম্মত নয় বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে বিইআরসি বলেন, জানুয়ারি মাসের জন্য কমিশন নির্ধারিত ১ হাজার ৩০৬ টাকা দামের বেশি দামে এলপিজি বিক্রির কোনো যৌক্তিকতা তিনি দেখছেন না। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করাই কমিশনের মূল লক্ষ্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ধর্মঘটের প্রভাব
উল্লেখ্য, এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড গত বুধবার ঘোষণা দেয় যে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ রাখা হবে। ঘোষণার পরপরই বেশ কয়েকটি জেলায় এলপিজি সিলিন্ডারের বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার সকালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা, গাজীপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় এলপিজি সিলিন্ডারের বিক্রি কার্যত বন্ধ ছিল। তবে দেশের অন্যান্য জেলায় সীমিত আকারে এলপিজি বিক্রি অব্যাহত ছিল।

নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট
বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা
ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণার ফলে ভোক্তা পর্যায়ে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সরবরাহ চেইন পুনরায় সচল করতে কিছুটা সময় লাগলেও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলপিজি বর্তমানে দেশের গ্রাম ও শহর—উভয় এলাকায় রান্নার অন্যতম প্রধান জ্বালানি। তাই এই খাতে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা তৈরি হলে সাধারণ মানুষের ওপর বড় ধরনের চাপ পড়ে। এ কারণে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি।
সব মিলিয়ে, আলোচনার মাধ্যমে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন দেখার বিষয়, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দাবি বাস্তবায়নে কতটা অগ্রগতি আসে এবং এলপিজি বাজার কত দ্রুত স্থিতিশীল হয়।
এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট শেষ এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট শেষ এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট শেষ এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট শেষ
সব পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে এলপিজি ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাজার ও ভোক্তাদের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসি এবং এলপিজি ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি হওয়ায় সরবরাহ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
তবে দাম নির্ধারণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে যে মতভেদ রয়েছে, তা সমাধানে কার্যকর ও টেকসই সিদ্ধান্ত জরুরি। সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই এলপিজি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে এবং সাধারণ মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে।
