আইভরি কোস্টের স্বপ্ন ভাঙল মিশরের কাছে

আইভরি কোস্টের স্বপ্ন ভাঙল মিশরের কাছে

মোহাম্মদ সালাহর দুর্দান্ত গোল এবং পুরো দলের লড়াকু পারফরম্যান্সে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আইভরি কোস্টকে ৩–২ গোলে হারিয়ে ২০২৫ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (AFCON) এর সেমিফাইনালে উঠে গেছে মিশর। উত্তেজনাপূর্ণ এই কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় মরক্কোর আগাদির শহরে।

লিভারপুল তারকা সালাহ এই টুর্নামেন্টে নিজের চতুর্থ গোলটি করেন ম্যাচের ৫২ মিনিটে। সেটিই ছিল মিশরের তৃতীয় গোল এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচের জয়সূচক ব্যবধান। আইভরি কোস্ট দুইবার পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ফিরে আসার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মিশরের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় সমতায় ফেরা সম্ভব হয়নি।

এই জয়ের ফলে মিশর সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ২০২১ সালের চ্যাম্পিয়ন সেনেগালের। ম্যাচটি আগামী বুধবার তানজিয়ারে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মেসি কোচ নয় মালিক হিসেবে থাকতে চান

খেলার শুরুটা ছিল আইভরি কোস্টের জন্য দুঃস্বপ্নের মতো। মাত্র চতুর্থ মিনিটেই তারা গোল হজম করে বসে। মিডফিল্ডে ফ্রাঙ্ক কেসি বাজেভাবে বল নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন এবং ডিফেন্ডার ওডিলন কোসোনু পড়ে যান। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ইমাম আশুর নিখুঁত পাস দেন ওমর মারমুশকে, যিনি ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে মিশরকে এগিয়ে দেন।

এই গোল আইভরি কোস্টকে মানসিকভাবে বেশ চাপে ফেলে দেয়। মিশর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আক্রমণ চালাতে থাকে এবং রক্ষণেও শক্ত অবস্থান নেয়।

মিশরের ডিফেন্ডার রামি রাবিয়া ছিলেন ম্যাচের অন্যতম নায়ক। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে তিনি একটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ রুখে দেন দুর্দান্ত ব্লক দিয়ে। এরপর ৩২ মিনিটে কর্নার কিক থেকে হেডে গোল করে দলের লিড বাড়ান তিনি।

দুটি গোল খেয়ে বসার পর আইভরি কোস্ট কিছুটা ছন্দ ফিরে পায়। বিরতির ঠিক পাঁচ মিনিট আগে তারা একটি গোল শোধ দেয়। ইয়ান দিয়োমান্দের ফ্রি কিক বিপজ্জনকভাবে বক্সে ঢুকে পড়ে, কোসোনু হেড দিয়ে বল সামনে পাঠান এবং সেটি দুর্ঘটনাবশত মিশরের ডিফেন্ডার আহমেদ আবু এল ফতোহের গায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবার ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় মিশর। ৫২ মিনিটে রামি রাবিয়ার লম্বা পাসে ইমাম আশুর বল পান। তিনি অসাধারণ বাইরের পায়ের পাসে বল বাড়ান সালাহর দিকে। সুযোগ পেয়েই গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জাল কাঁপান সালাহ।

এই গোল ছিল টুর্নামেন্টে সালাহর চতুর্থ এবং মিশরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে আবার দুই গোলের ব্যবধান তৈরি হয়।

৭৩ মিনিটে আইভরি কোস্ট আবার ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয়। গোলমুখে বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্যে গেলা দোয়ে হিল দিয়ে বল জালে পাঠান। এর আগে গোলরক্ষক মোহাম্মদ এল-শেনাওয়ি অসাধারণ দক্ষতায় বল ফিরিয়ে দিলেও দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় গোল হজম করতে হয়।

IPL থেকে বাদ: কী বলছে বিমা নীতি

এরপর ম্যাচের শেষ ১৫–২০ মিনিটে আইভরি কোস্ট একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে। মিশরের বক্সে চাপ বাড়তে থাকে, কর্নার, ফ্রি কিক এবং দূরপাল্লার শট—সবকিছুই চেষ্টা করে তারা। কিন্তু মিশরের ডিফেন্স লাইন এবং গোলরক্ষক দৃঢ় অবস্থান ধরে রাখেন।

শেষ পর্যন্ত ৩–২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আফ্রিকার সাতবারের চ্যাম্পিয়নরা। আইভরি কোস্টের স্বপ্ন ভাঙল মিশরের কাছে আইভরি কোস্টের স্বপ্ন ভাঙল মিশরের কাছে

এই টুর্নামেন্টে মিশরের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম নিঃসন্দেহে মোহাম্মদ সালাহ। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করে দলকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা আবারও প্রমাণ করেছেন তিনি। তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব মিশরের তরুণ খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।

সেমিফাইনালে সেনেগালের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে লড়াই সহজ হবে না। তবে বর্তমান ফর্ম ও দলের মনোবল দেখে মিশর সমর্থকরা আশাবাদী।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া আইভরি কোস্টের জন্য এই বিদায় নিঃসন্দেহে কষ্টের। ম্যাচে তারা লড়াই করলেও শুরুতেই দুই গোল হজম করা তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

তবুও দলটির তরুণ খেলোয়াড়রা সাহসের পরিচয় দিয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জমিয়ে তুলেছিল। আইভরি কোস্টের স্বপ্ন ভাঙল মিশরের কাছে আইভরি কোস্টের স্বপ্ন ভাঙল মিশরের কাছে আইভরি কোস্টের স্বপ্ন ভাঙল মিশরের কাছে

মিশর এখন তাকিয়ে আছে সেমিফাইনালের দিকে। সেনেগালের বিপক্ষে জয় পেলে তারা আবার ফাইনালে ওঠার সুযোগ পাবে এবং আরও একটি মহাদেশীয় শিরোপার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে পারে।

অন্যদিকে এই টুর্নামেন্টে ভালো পারফরম্যান্স মিশরের জন্য বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের হতাশা কিছুটা হলেও ভুলিয়ে দিতে পারে।

দুইবার পিছিয়ে পড়েও লড়াই করেছে আইভরি কোস্ট, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সালাহর নেতৃত্বে জয় নিশ্চিত করে ফারাওরা। এখন সেনেগালের বিপক্ষে বড় লড়াই অপেক্ষা করছে। এক কথায়, সালাহর নেতৃত্বে মিশর আবারও প্রমাণ করেছে—বড় ম্যাচে তারা কখনোই হাল ছাড়ে না। আইভরি কোস্টের স্বপ্ন ভাঙল মিশরের কাছে আইভরি কোস্টের স্বপ্ন ভাঙল মিশরের কাছে আইভরি কোস্টের স্বপ্ন ভাঙল মিশরের কাছে

Leave a Comment