ভেনেজুয়েলায় অভিযান বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া
ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। লাতিন আমেরিকা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ভেনেজুয়েলা সরকার দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে।
কারাকাস প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে তারা “চরম গুরুতর সামরিক আগ্রাসন” হিসেবে বিবেচনা করছে। সরকারের দাবি, বিদেশি শক্তির এমন হস্তক্ষেপ দেশটির ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। এর পরপরই ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠ মিত্র ও আঞ্চলিক অংশীদারদের কাছ থেকেও সমালোচনার ঝড় ওঠে। ভেনেজুয়েলায় অভিযান বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া
তেলসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলার অন্যতম কৌশলগত মিত্র ইরান যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই হামলা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর প্রকাশ্য সামরিক আগ্রাসনের শামিল এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ইরান মনে করে, এ ধরনের পদক্ষেপ বৈশ্বিক নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়াও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো বলেছেন, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পুরো অঞ্চলটির স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তাঁর মতে, এর ফলে বড় ধরনের মানবিক সংকট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি দ্রুত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বানের দাবি জানান।

ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের মিত্র কিউবা এই ঘটনাকে আরও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছে। হাভানার পক্ষ থেকে একে “ভেনেজুয়েলার সাহসী জনগণের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে সরাসরি ‘সশস্ত্র আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করেছে। মস্কোর বক্তব্য, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে এই ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর কোনো গ্রহণযোগ্য যুক্তি নেই এবং আদর্শগত বৈরিতা কূটনৈতিক সমাধানের পথকে রুদ্ধ করছে। ভেনেজুয়েলায় অভিযান বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া
ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিক্রিয়াও লক্ষ্য করা গেছে। স্পেন উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, তারা আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক সমাধানে মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত। জার্মানি জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখছে।
ঢাকায় এলপি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির কার্যালয় জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতির দিকে তারা নিবিড় নজর রাখছে এবং সেখানে অবস্থানরত ইতালীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে বেলজিয়ামও; দেশটি ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
এদিকে ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশ ট্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রধানমন্ত্রী কমলা পার্সাদ-বিসেসর স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযানের সঙ্গে তাঁর দেশ কোনোভাবেই জড়িত নয়। তিনি জানান, শনিবার সকালে ভেনেজুয়েলার ভেতরে মার্কিন সামরিক তৎপরতার খবর তারা পেয়েছেন, তবে এতে ট্রিনিদাদ ও টোবাগোর কোনো ভূমিকা নেই।
ভেনেজুয়েলায় অভিযান বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া ভেনেজুয়েলায় অভিযান বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া
