চুক্তি নিয়ে সংসদে বিতর্কের দাবি

চুক্তি নিয়ে সংসদে বিতর্কের দাবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানিয়েছেন, বিএনপি–জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতামত নিয়েই ওই চুক্তি করা হয়েছিল। তাই এখন বিরোধী দলগুলোও প্রকাশ্যে চুক্তির বিরুদ্ধে তেমন অবস্থান নিচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন ফরিদা আখতার। হাওরে বোরো ধানের ক্ষতি ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে নয়াকৃষি আন্দোলন ও উবিনীগ।

আলোচনায় ফরিদা আখতার বলেন, নির্বাচনের ঠিক আগে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে “অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোক্যাল ট্রেড (এআরটি)” নামে যে বাণিজ্যচুক্তি সই হয়েছিল, সেটি এককভাবে করা হয়নি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতের মতামত নিয়েই চুক্তিটি করা হয়। তার দাবি, এ কারণেই এখন বড় রাজনৈতিক দলগুলো চুক্তি নিয়ে খুব বেশি আপত্তি তুলছে না।

তিনি আরও বলেন, চুক্তির মধ্যে সংশোধন ও বাতিলের সুযোগ রয়েছে, এবং চুক্তি নিয়ে সংসদে বিতর্কের দাবি করেন। প্রয়োজন হলে সরকার এটি সংশোধন করতে পারবে, এমনকি বাতিলও করা যাবে। তবে তার মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—চুক্তি নিয়ে সংসদে বিতর্কের দাবি এ চুক্তি সংসদে আলোচনা হওয়া। জনগণের স্বার্থে চুক্তিটি সংসদে উত্থাপন করে বিস্তারিত বিতর্ক ও পর্যালোচনা করা উচিত বলেও মত দেন তিনি।

ফরিদা আখতার বলেন, দেশের জনগণকে না জানিয়ে বা সংসদীয় আলোচনার বাইরে রেখে এ ধরনের আন্তর্জাতিক চুক্তি করা ঠিক নয়। তাই নতুন সংসদে বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, জনগণের সম্মতি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি সই হয়। এরপর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গন ও বিভিন্ন মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচনের ঠিক আগে কেন এমন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করা হলো এবং এতে দেশের স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত রয়েছে।

এদিকে একই দিনে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া এই চুক্তির লাভ–ক্ষতি সরকার নতুন করে যাচাই করবে। তিনি জানান, রাষ্ট্রীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো ধারা আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে।

ড. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ছয় মাসের নোটিশ দিয়ে এটি বাতিল করার সুযোগ রয়েছে। তবে হঠাৎ করে চুক্তি বাতিল করলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই সরকার বিষয়টি সতর্কভাবে পর্যালোচনা করবে।

পারিবারিক বিরোধে প্রাণ গেল যুবকের

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যচুক্তি দেশের অর্থনীতি, রপ্তানি ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। তাই এ ধরনের চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য ও সংসদীয় আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সময়ে করা চুক্তিগুলো নিয়ে জনগণের মধ্যে স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন বলেও তারা মনে করছেন।

বর্তমানে এই চুক্তি নিয়ে সরকার, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সংসদে বিষয়টি উত্থাপন হলে চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তথ্য সূত্র : দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Comment