ইলন মাস্ককে পাশে নিয়েই চীনে ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বুধবার বেইজিং পৌঁছান মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট Han Zheng। এবারকার অভ্যর্থনাকে কূটনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। কারণ, ২০১৭ সালে ট্রাম্পের আগের সফরে তাঁকে স্বাগত জানিয়েছিলেন অপেক্ষাকৃত নিম্নপর্যায়ের নেতা ইয়াং জিয়েচি। এবার চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের একজন সরাসরি উপস্থিত থাকায় দুই দেশের সম্পর্কের নতুন বার্তা মিলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বেইজিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রাম্পকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেখানে ছিল চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুদের সারি, ব্যান্ড দলের পরিবেশনা এবং কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিমানবন্দরের বাইরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা যায় ব্যাপক আগ্রহ। অনেকেই মোবাইল ফোনে এয়ারফোর্স ওয়ানের ছবি ধারণ করেন।
এই সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রযুক্তিখাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের উপস্থিতি। ইলন মাস্ককে পাশে নিয়েই চীনে ট্রাম্প। ট্রাম্পের সঙ্গে সামনের সারিতে দেখা গেছে Elon Musk। বিমানবন্দরে ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেংের সঙ্গে মাস্ককে পরিচয় করিয়ে দেন ট্রাম্প নিজেই। এ দৃশ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বেশ আলোচিত হয়েছে। কারণ, বর্তমানে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতা বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।
ট্রাম্পের সফরসঙ্গী হিসেবে শেষ মুহূর্তে যোগ দেন Jensen Huang। তাঁর প্রতিষ্ঠান NVIDIA বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক চিপ তৈরির ক্ষেত্রে অন্যতম শীর্ষ কোম্পানি। তবে জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার চীনের কাছে এনভিডিয়ার উন্নত চিপ বিক্রির ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এবারের সফরে প্রযুক্তি ও বাণিজ্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে এআই, সেমিকন্ডাক্টর ও প্রযুক্তি বাজারে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিযোগিতা চলছে। চীনের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping-কে অনুরোধ করবেন যাতে চীন তাদের প্রযুক্তি বাজার আরও উন্মুক্ত করে।
এর আগে গত মার্চ মাসে এই সফর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তা পিছিয়ে যায়। পরে নতুন সূচি অনুযায়ী এই সফর চূড়ান্ত করা হয়। ফলে কয়েক মাসের অপেক্ষার পর অবশেষে বেইজিং সফরে গেলেন ট্রাম্প।
সফরের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় শুরু হবে এই বৈঠক। সেখানে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিনিয়োগ এবং দুই দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া রাতে একই স্থানে রাষ্ট্রীয় ভোজে অংশ নেবেন দুই নেতা। ধারণা করা হচ্ছে, আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক আলোচনা থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আসতে পারে। বিশেষ করে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা ও প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কোনো অগ্রগতি হয় কি না, সেদিকে নজর রাখছে বিশ্ব।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্কগুলোর একটি। বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তি বাজার, সামরিক কৌশল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বড় অংশই এই দুই দেশের অবস্থানের ওপর নির্ভর করে। তাই ট্রাম্পের এই সফর শুধু দুই দেশের জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সফরে প্রযুক্তিখাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের উপস্থিতি একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—আগামী দিনের ভূরাজনীতি শুধু সামরিক বা অর্থনৈতিক শক্তির ওপর নির্ভর করবে না, প্রযুক্তিও হয়ে উঠবে সবচেয়ে বড় নিয়ামক শক্তি। আর সেই কারণেই ট্রাম্পের বেইজিং সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
