দুই বিমানবন্দর এক টানেলে, বদলে যাবে দিল্লির যোগাযোগ ব্যবস্থা

দুই বিমানবন্দর এক টানেলে, বদলে যাবে দিল্লির যোগাযোগ ব্যবস্থা

ভারতের রাজধানী দিল্লির পরিবহন অবকাঠামোয় নতুন এক যুগের সূচনা হতে পারে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিবেচনায় থাকা একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের আওতায় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে একটি বিশেষ টানেল সংযোগের মাধ্যমে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানী অঞ্চল এবং আশপাশের শহরগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে দিল্লি এবং নয়ডার মধ্যে যাতায়াতে প্রায়ই দীর্ঘ যানজটের মুখোমুখি হতে হয় যাত্রী ও পরিবহনসেবাগুলোকে। বিশেষ করে বিমানবন্দরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সময়মতো পৌঁছানো অনেক সময় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যেই দুই বিমানবন্দর এক টানেলে, বদলে যাবে দিল্লির যোগাযোগ ব্যবস্থা শীর্ষক পরিকল্পনাটি গুরুত্ব পাচ্ছে।

টাকা উত্তোলনে চাপ

ভারতের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অব ইন্ডিয়া (এনএইচএআই) ইতোমধ্যে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা নিয়ে প্রাথমিক মূল্যায়ন শুরু করেছে। যদিও এখনো চূড়ান্ত নকশা বা নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদন পায়নি, তবুও সংশ্লিষ্ট মহলে এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দিল্লির পরিবহন খাতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, টানেলটির একটি অংশ রাজধানীর তালকাটোরা স্টেডিয়াম এলাকা থেকে শুরু হয়ে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অতিক্রম করে গুরগাঁও পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। পরবর্তী ধাপে এটি সরাই কালে খান অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত হবে। পরে এই সংযোগ দিল্লি-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়ে এবং নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে সম্প্রসারিত করার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে। ফলে দুই বিমানবন্দর এক টানেলে, বদলে যাবে দিল্লির যোগাযোগ ব্যবস্থা—এমন প্রত্যাশা আরও জোরালো হচ্ছে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই টানেল নির্মিত হলে শুধু বিমানবন্দরের যাত্রী নয়, সাধারণ যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাও উপকৃত হবে। বর্তমানে রাজধানীর বহু গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রতিদিন দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। নতুন টানেল চালু হলে বিকল্প রুট তৈরি হবে এবং সড়কগুলোর ওপর চাপ কমবে। এর ফলে ভ্রমণের সময় কমার পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবেশ দূষণও কিছুটা হ্রাস পেতে পারে।

বিশেষ করে করোল বাগ, প্যাটেল নগর, রাজেন্দ্র প্লেস, কনট প্লেসসহ দিল্লির ব্যস্ত এলাকাগুলোর যানবাহন চলাচলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এসব এলাকায় যাতায়াত করেন। নতুন সংযোগ ব্যবস্থা চালু হলে তাদের ভ্রমণ সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে। এ কারণেই অনেকের মতে, দুই বিমানবন্দর এক টানেলে, বদলে যাবে দিল্লির যোগাযোগ ব্যবস্থা শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়, বরং এটি রাজধানীর সার্বিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

এনএইচএআই সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সম্ভাব্য রুট, নির্মাণ ব্যয়, প্রকৌশলগত জটিলতা এবং পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ চলছে। সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে একটি বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন বা ডিপিআর প্রস্তুত করা হবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি।

নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ভারতের অন্যতম বৃহৎ বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে বিপুল সংখ্যক যাত্রী এই বিমানবন্দর ব্যবহার করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইতোমধ্যেই দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোর একটি। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরের মধ্যে সরাসরি দ্রুত সংযোগ স্থাপন করা গেলে দেশের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে। তাই দুই বিমানবন্দর এক টানেলে, বদলে যাবে দিল্লির যোগাযোগ ব্যবস্থা পরিকল্পনাটি জাতীয় পর্যায়েও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বড় অবকাঠামো প্রকল্প সাধারণত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই টানেল প্রকল্পও নির্মাণ পর্যায় থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে নতুন গতি আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

যদিও প্রকল্পটি এখনো পরিকল্পনার প্রাথমিক ধাপে রয়েছে, তবুও এটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানী অঞ্চলের পরিবহন ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত, নিরাপদ এবং আধুনিক যোগাযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলা ভারতের জন্য এটি হতে পারে আরেকটি মাইলফলক প্রকল্প। সেই কারণেই দুই বিমানবন্দর এক টানেলে, বদলে যাবে দিল্লির যোগাযোগ ব্যবস্থা শিরোনামের এই পরিকল্পনা এখন জনমনে ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সব মিলিয়ে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং স্মার্ট যোগাযোগ ব্যবস্থার পথে ভারতের নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানী অঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। আর তখন সত্যিই বলা যাবে—দুই বিমানবন্দর এক টানেলে, বদলে যাবে দিল্লির যোগাযোগ ব্যবস্থা।

Leave a Comment