মুখের ঘা কেন হয়
মুখের ঘা একটি অত্যন্ত সাধারণ স্বাস্থ্যসমস্যা। ছোট-বড় সব বয়সের মানুষই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এই সমস্যার মুখোমুখি হন। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক দিনের মধ্যেই এটি সেরে যায়, তবে কখনো কখনো মুখের ঘা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে তা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিতও দিতে পারে। তাই অনেকেই জানতে চান, মুখের ঘা কেন হয় এবং এটি কতটা গুরুতর হতে পারে।
মুখের ঘা কেন হয়
মুখের ভেতরের নরম অংশে ক্ষুদ্র ক্ষত বা আলসার তৈরি হলে তাকে সাধারণভাবে মুখের ঘা বলা হয়। এর পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। অনেক সময় দাঁতের ধারালো অংশ জিহ্বা বা গালের ভেতরে আঘাত করলে ঘা হতে পারে। আবার অতিরিক্ত গরম খাবার খাওয়া বা ভুলবশত মুখের ভেতর কামড় লেগেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, ভিটামিন বি১২, আয়রন ও ফলিক অ্যাসিডের ঘাটতি মুখের ঘার অন্যতম কারণ। এছাড়া পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও মুখে ঘা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
মুখের ঘা কেন হয় এবং কোন রোগের লক্ষণ হতে পারে
অনেক সময় মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে ভাবেন, মুখের ঘা কেন হয় এবং এটি কোনো বড় রোগের লক্ষণ কি না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মুখের ঘা গুরুতর নয়। তবে কিছু পরিস্থিতিতে এটি শরীরের ভেতরে থাকা অন্য সমস্যার সংকেত দিতে পারে।
যেমন—
- ভিটামিনের ঘাটতি
- রক্তস্বল্পতা
- হজমজনিত সমস্যা
- রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার অসামঞ্জস্য
- কিছু ভাইরাস বা সংক্রমণ
- দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহজনিত রোগ
যদি বারবার মুখে ঘা হয় এবং দীর্ঘদিন ভালো না হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মুখের ঘা কেন হয় এবং কখন সতর্ক হবেন
সাধারণ মুখের ঘা সাধারণত ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে সেরে যায়। কিন্তু যদি ঘা তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, অতিরিক্ত ব্যথা হয় বা খাওয়া-দাওয়ায় সমস্যা সৃষ্টি করে, তাহলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী মুখের ঘা কখনো কখনো মুখগহ্বরের জটিল রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। তাই নিয়মিত পর্যবেক্ষণ জরুরি।
মুখের ঘা কেন হয় এবং প্রতিরোধের উপায়
মুখের ঘা প্রতিরোধে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।
- প্রতিদিন দুইবার দাঁত ব্রাশ করা
- পর্যাপ্ত পানি পান করা
- পুষ্টিকর খাবার খাওয়া
- ভিটামিনসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ
- ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য এড়িয়ে চলা
- পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা
- মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করা
এসব অভ্যাস শুধু মুখের ঘা নয়, সামগ্রিক মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সাহায্য করে।
মুখের ঘা হলে কী করবেন
মুখে ঘা হলে অতিরিক্ত ঝাল, টক ও মসলাযুক্ত খাবার কিছুদিন এড়িয়ে চলা ভালো। হালকা গরম পানিতে কুলি করা যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে বিশ্রাম ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমেই সমস্যা দূর হয়ে যায়।
তবে ঘন ঘন মুখে ঘা হলে বা জ্বর, ওজন কমে যাওয়া কিংবা অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
অনেকেই প্রশ্ন করেন, মুখের ঘা কেন হয়। এর উত্তর হলো, মুখের ঘা হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি সাময়িক এবং নিরীহ সমস্যা হলেও কিছু ক্ষেত্রে শরীরের অন্য কোনো অসুস্থতার ইঙ্গিত দিতে পারে। তাই মুখের ঘা বারবার হলে বা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে অবহেলা না করে চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। সচেতনতা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত মুখের যত্নের মাধ্যমে এ সমস্যা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
